তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, বন্ধু দীপ গ্রেপ্তার

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। এ মামলায় নিহত তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও জু‌নিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ শনিবার সকা‌লে বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রেছেন উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হা‌বিবুর রহমান। তিনি জানান, তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলার তদন্ত চল‌ছে।

এদি‌কে দীপ‌কে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার তদন্ত সংস্থা নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে‌ছে।

নৌ পু‌লি‌শের প্রধান অ‌তি‌রিক্ত আইজি‌পি রেজাউল ক‌রিম বলেন, ‘দীপ‌কে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখা‌নো হ‌য়ে‌ছে। পি‌বিআই-এর তদন্ত ও আমা‌দের তদ‌ন্তে পাওয়া তথ্যগু‌লো যাচাই-বাছাই করা হ‌চ্ছে।’

গতকাল শুক্রবার দীপ‌কে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে পিবিআই। পরে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় ব‌লে পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

তি‌নি জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নৌ পুলিশ মূল তদন্ত করছে। ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পিবিআই ছায়া তদন্তের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হ‌য়ে‌ছে।

এর আগে ২৯ অ‌ক্টোবর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এ কারণে তার কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

পরদিন শুক্রবার পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার রাতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেদিন রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল।

দীপ দাবি করেন, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
(ডেস্ক রিপোর্ট)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *