বয়স ৩৮, তবুও আগুনে মেসি—এমএলএসে লিখলেন অমর ইতিহাস

বার্সেলোনার সেই পুরনো যুবকই যেন আবার মাঠে ফিরে এসেছেন। প্রথমার্ধেই ম্যাচের রং বদলে দেন মেসি। ২৭ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে প্রথম গোল, এরপর ৩৭ মিনিটে বুসকেটসের পাস ধরে নিচু শটে দ্বিতীয় গোল—এক কথায় গোলের সৌন্দর্যে মোহিত পুরো মাঠ।ফুটবল যখন নাম হয় লিওনেল মেসি, তখন বয়স শুধু একটি সংখ্যা। মায়ামির আকাশে তার আলো ঠিক এমনই।

বুধবার রাতে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের মাঠে ইন্টার মায়ামির হয়ে আবারও সেই পরিচিত জাদু দেখালেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। দলের ২-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন মেসি—আর এই সঙ্গেই এমএলএসে লিখলেন নতুন ইতিহাস।

এটাই প্রথমবার, কোনো খেলোয়াড় মেজর লিগ সকারে টানা চারটি ম্যাচে করেছেন একাধিক গোল।

ম্যাসাচুসেটসের গিলেট স্টেডিয়ামে যেন সময় পেছনে ফিরেছিল। মনে হচ্ছিল, বার্সেলোনার সেই পুরনো যুবকই যেন আবার মাঠে ফিরে এসেছেন। প্রথমার্ধেই ম্যাচের রং বদলে দেন মেসি। ২৭ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে প্রথম গোল, এরপর ৩৭ মিনিটে বুসকেটসের পাস ধরে নিচু শটে দ্বিতীয় গোল—এক কথায় গোলের সৌন্দর্যে মোহিত পুরো মাঠ।

এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে জোড়া গোল করলেন মেসি। এই চার ম্যাচে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮:

২৮ মে: মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে – ২ গোল

৩১ মে: কলাম্বাস ক্রু – ২ গোল

৫ জুলাই: মন্ট্রিয়ালে অ্যাওয়ে ম্যাচে – ২ গোল

৯ জুলাই: নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে – ২ গোল

তার আগে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ ড্র ম্যাচেও স্কোরশিটে নাম লিখিয়েছিলেন ‘লা পুলগা’।

এই ধারাবাহিকতায় ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি, প্লে-অফে ওঠার স্বপ্ন এখন আরও বাস্তব।

শুধু এমএলএস নয়, ক্লাব বিশ্বকাপেও মেসির জাদু দেখা গেছে। পোর্তোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচেও করেন গুরুত্বপূর্ণ গোল, যদিও পরে দলটি বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকে।

মেসির এই পারফরম্যান্স নিয়ে ইন্টার মায়ামির কোচ হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানো বলেন, “মেসি শুধু গোলই করছে না, পুরো দলের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওর নেতৃত্বে আমরা শুধু ম্যাচ জিতছি না, একটা জয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠছে।”

একজন মেসি মানে শুধু ফুটবলার নয়, তিনি যেন জীবন্ত এক অনুপ্রেরণা। নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে তার পারফরম্যান্স আরও একবার প্রমাণ করল—গোল করতে পারেন অনেকেই, কিন্তু ইতিহাস লেখার জন্ম মেসির মতো কারও কারও জন্যই।(মোজাম্মিল হোসেন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *