পোপের বেশে নিজের ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পোপের পোশাকে নিজের একটি এআই-তৈরি ছবি পোস্ট করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে এই সমালোচনা এসেছে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের কাছ থেকে। ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে। এ ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে যখন ক্যাথলিকরা সদ্য প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে শোক পালন করছেন এবং নতুন পোপ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যু হয় ২১শে এপ্রিল। নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাথলিক কনফারেন্স ট্রাম্পের ওই ছবির নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ট্রাম্প ক্যাথলিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপহাস করেছেন। এর কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি পোপ হতে চাই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও একবার ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের রোষানলে পড়েন, যখন তিনি ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় গর্ভপাত অধিকার সমর্থনকারী সমাবেশে ক্রুশচিহ্ন এঁকে দেন। ভ্যাটিকানের মুখপাত্র ম্যাতেও ব্রুনি শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের পোস্ট সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ভ্যাটিকান নতুন পোপ নির্বাচনের জন্য বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কনক্লেভের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, তিনি পোপের সাদা পোশাক ও মাথায় ক্যাথলিক বিশপদের ঐতিহ্যবাহী ‘মিত্রে’ পরেছেন। গলায় একটি বড় ক্রুশ ঝুলানো এবং এক হাত তুলে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছেন তিনি।

নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাথলিক কনফারেন্স এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছে: এই ছবিতে কিছুই মজার বা বুদ্ধিদীপ্ত নয়, মি. প্রেসিডেন্ট। আমরা সদ্য আমাদের প্রিয় পোপ ফ্রান্সিসকে সমাহিত করেছি এবং কার্ডিনালরা নতুন উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য গভীর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমাদের বিশ্বাসকে উপহাস করবেন না।

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বামপন্থী রাজনীতিক মাত্তেও রেনজি এই পোস্টের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন: এই ছবি বিশ্বাসীদের অপমান করে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসম্মানজনক এবং এটা দেখায় যে ডানপন্থি বিশ্বনেতা হিসেবে তিনি বিষয়গুলোকে হাস্যকর করে তুলতে পছন্দ করেন।

তবে হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে ট্রাম্প পোপকে নিয়ে কোনো উপহাস করেননি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পোপ ফ্রান্সিসের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইতালি গিয়েছিলেন এবং তিনি ক্যাথলিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার একজন দৃঢ় সমর্থক।(মোঃ মিছবাহ উদ্দিন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *