বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিল বিবিএস

ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। বাজারের এমন অস্থিরতার মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য কতটুকু বাস্তবসম্মত সে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যেভাবে মূল্যস্ফীতি কমার ভুল তথ্য দেখানোর অভিযোগ ছিল বিবিএসের বিরুদ্ধে তা এখনো দেখা যাচ্ছে। গতকাল প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কয়েক বছর ধরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি গত বছরের অক্টোবরে সর্বনিম্নে পৌঁছায়। ওই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। যা আগের ৩৯ মাসে সর্বনিম্ন ছিল। তবে সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অক্টোবরের পর আবারো বাড়তে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারিতে এসে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছায়। যা এর আগের ১০ মাসে সর্বোচ্চ ছিল। তবে মার্চে হঠাৎ কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২৫-এর মার্চে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া রমজান ও ঈদ শেষ হয় মার্চের শেষ নাগাদ। রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, সবজি ও ঈদের খাবার উপকরণের দাম বাড়ে। ফলে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ে। তবে বাজারে খাদ্যপণ্যের এমন অস্থিরতার মধ্যেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিএস। মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে। ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে মার্চেই বাড়তে শুরু করে খাদ্যবহির্ভূত গ্যাস, ইলেকট্রনিক ও নির্মাণসামগ্রীর দাম। বিশেষ করে নির্মাণ শিল্পের অন্যতম উপকরণ রড-সিমেন্টের দাম বেড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রডের দাম বেড়েছে টনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সিমেন্টের দাম বাড়ে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা। এছাড়া গরমের শুরুতে ফ্যান, এসিসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বেড়েছে। গত মাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য বাড়ার তথ্য দিয়েছে বিবিএস। মার্চে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আগের মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

দেশের বাজারে সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতির হলেও বিবিএসের মূল্যস্ফীতির তথ্য কতটা বাস্তবসম্মত সে প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দেখিয়ে অর্থনীতির স্বাভাবিক অবস্থা দেখানোর প্রবণতা ছিল। মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে মানুষের অবিশ্বাসের তথ্যও নতুন নয়। খোদ বিবিএসের এক জরিপে দেখা যায়, সংস্থাটির তথ্য ব্যবহারকারীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ রয়েছে। বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির হারের সঙ্গে সংস্থাটির দেয়া মূল্যস্ফীতির তথ্যের ব্যবধান অনেক বেশি বলে দাবি অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের।

বাজার বাস্তবতার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির এ চিত্রের মিল নেই বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও বিবিএস সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘মার্চজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব ছিল এবং ঈদ বাজারে দ্রব্যমূল্য ছিল ঊর্ধ্বগতির। ঈদে যে রেমিট্যান্স এসেছে তা ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে তেল, জ্বালানির সংকট তীব্র, সে জায়গায় মূল্যস্ফীতি হঠাৎ কমে আসার এমন কোনো কারণ দেখছি না। এখানে বাস্তবতার কোনো প্রতিফলন বা যৌক্তিকতা নেই। কেন এমনটা হয়েছে সেটির জবাব তাদের (বিবিএস) দিতে হবে।’
(ডেস্ক রিপোর্ট)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *