সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শহরে আকাশপথে আসা একটি ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ বা শ্র্যাপনেলের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে আল রিফা এলাকার একটি খামারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম (ডব্লিউএএম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছে।

ফুজাইরার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আল রিফা এলাকার ওই খামারে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পতনের ফলেই ওই বাংলাদেশি ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরব আমিরাতে এটি সাধারণ নাগরিকদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।

চলমান এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর দুইজন সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ একজন মরক্কো দেশের নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন ও ভারতের অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কেবল আরব আমিরাতেই ১৮৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়াও মিশর, সুদান, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান, বাহরাইন, কমোরোস, তুরস্ক, ইরাক, নেপাল, নাইজেরিয়া, ওমান, জর্ডান, ফিলিস্তিন, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, সুইডেন এবং তিউনিসিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে রুখে দিতে সক্ষম হচ্ছে, কিন্তু ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে পড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

বিশেষ করে আল রিফার মতো কৃষিকাজ প্রধান এলাকায় ড্রোনের টুকরো পড়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফুজাইরার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং কোনো সন্দেহভাজন বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

বাংলাদেশি প্রবাসীর এই মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে এই যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তেল সমৃদ্ধ এই দেশগুলোতে বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বারবার দাবি করে আসছে যে তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট, তবে আকাশপথের এই চোরাগোপ্তা হামলাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: দ্য ন্যাশনাল নিউজ

(ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *