এবার হাসান নাসরুল্লাহর সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি

লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতে গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর শীর্ষস্থানীয় নেতা হাশেম সাফিউদ্দিনকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

হামলায় হাশেম সাফিউদ্দিন আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। হাশেম সাফিউদ্দিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহর স্বজন।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে ১১ বার ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাটিতে মিশে গেছে অনেক আবাসিক ভবন।

হিজবুল্লাহর দুই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির একজন সাফিউদ্দিন। হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সংগঠনের প্রধানের দায়িত্ব পাবেন। সাফিউদ্দিন বর্তমানে হিজবুল্লাহর নির্বাহী পরিষদের প্রধান। হাসান নাসরুল্লাহর উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় আছেন সংগঠনটির উপপ্রধান নাইম কাশেমও।

সাফিউদ্দিন লেবাননের টায়ার শহরের কাছে দের কানুন এন-নাহর গ্রামে ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাসান নাসরুল্লাহর সঙ্গে ইরাকের নাজাফ ও ইরানের কম শহরে শিয়াদের প্রধান দুটি শিক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। হিজবুল্লাহর যাত্রার শুরুর দিকেই তাঁরা একসঙ্গে সংগঠনটিতে যোগ দেন।

ইরানের সঙ্গে সাফিউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। তিনি ইরানের আলোচিত সেনাপ্রধান নিহত কাশেম সুলাইমানির মেয়ের জামাই। কাশেম ২০২০ সালে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন।

হিজবুল্লাহর নির্বাহী পরিষদে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনটির শুরা বা পরামর্শ পরিষদের প্রধান সদস্য ও জিহাদ কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাফিউদ্দিন।

আল–জাজিরার একজন প্রতিবেদক বলেন, একটি, দুটি কিংবা তিনটি নয়—বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ দহিয়েহ এলাকায় ১১টি বোমা আঘাত হেনেছে। এসব হামলায় বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে শুনেছেন তিনি। এসব বোমা মাটির অনেক গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে সাফিউদ্দিনকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাশেম সাফিউদ্দিন হিজবুল্লাহর অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন। তিনি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই হিজবুল্লাহর সঙ্গে আছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের পরবর্তী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে, এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে সাফিউদ্দিনকে লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। আবার হিজবুল্লাহও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফিউদ্দিনকে সন্ত্রাসী তকমা দেয়। গত জুনে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ওই কমান্ডারের দাফন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘(শত্রুরা) কান্না ও বিলাপের জন্য প্রস্তুত হও।’ সাফিউদ্দিনের বিবৃতিতে প্রায় সময়ই হিজবুল্লাহর শক্তিশালী সামরিক অবস্থানের বিষয়গুলোর প্রতিফলন থাকে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। তাঁকে হত্যার পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চরমে উঠেছে।(মাহফুজুল ইসলাম)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *